চৈত্র অমাবস্যা ব্রত
আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ২১মার্চ মঙ্গলবার। চৈত্র মাসের অমাবস্যা। মঙ্গলবার তাই এটি ভৌম অমাবস্যা নামে পরিচিত। অমাবস্যাটি বিশেষ ভাবে পালিত হয়ে থাকে । পণ্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন,এই শুভ দিনটিতে গঙ্গা বা নদীতে স্নান করতে পারেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে পুজো-পাঠ করা ভালো। পূর্বপুরুষদের জলদানও করতে পারেন।পূর্বপুরুষগণ উত্তরসূরিদের শুভ কর্ম থেকে তৃপ্তি ও শান্তিলাভ করতে পারবেন। পরিবারের পরলোকগত সদস্যদের তুষ্ট করার দিনও বলা হয়ে থাকে।
শাস্ত্রবিশারদ ও পণ্ডিতরা আরও বলছেন,এই বিশেষ তিথিতে গবাদি পশুদের খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষদের দিনটিতে সেবা করতে পারেন। শাস্ত্র মতে বলা হয়েছে,পূর্বপুরুষরা অমাবস্যায় তাঁদের বংশধরদের দেখতে যান। তাঁদের থেকে খাবারও গ্রহণ করেন। চৈত্র অমাবস্যা ব্রত হিন্দু ধর্মের মানুষদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যা ব্রত বা উপবাস ভোর থেকে শুরু হয় এবং তা প্রতিপদে চাঁদ দেখা পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।
পাশাপাশি মঙ্গলবার হনুমানজির জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এক্ষেত্রে পণ্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মঙ্গলবার শ্রীরামের পুজো করার পর হনুমানজির মূর্তি বা ছবির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে হনুমান চালিসা পাঠ করলে শুভ ফল লাভ হয়। ভগবান শ্রী রামের নাম ও জপ করা যেতে পারে।
এই দিনে দেব-দেবীর পুজো করা উচিত। বিকেলে বা সন্ধ্যার পর পিতৃপুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধ তর্পণ করতে পারেন। অমাবস্যায় এই শুভদিনে ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নানের পর তামার পাত্র থেকে সূর্যকে জল অর্পণ করতে হবে। সূর্যকে জল দেওয়ার সময় “ওম সূর্যায় নমঃ…” মন্ত্রও জপ করতে হবে।
পণ্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন,বাড়ির মন্দিরে বাল গোপাল থাকলে তার অভিষেক করা উচিত। “কৃষ্ণ কৃষ্ণায় নমঃ…” মন্ত্রটি জপ করা উচিত। তুলসী সহ মাখন-মিছরি নিবেদন করা উচিত। আবার চৈত্র অমাবস্যায় ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে জীবন থেকে কষ্ট -দুঃখ দূর হয় বলে প্রচলিত রয়েছে। পুরাণে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এই শুভ দিনটিতে গঙ্গা বা নদীতে স্নান করলে পাপ ও অশুভ কর্ম দূর হয়। শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করা যেতে পারে। “ওম নমঃ শিবায়…” মন্ত্র জপ করা উচিত। শিবলিঙ্গ বেলপাতা ও ফুল দিয়ে সাজানো যেতে পারে। প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করলে শুভ।

